সংবাদ শিরোনাম :

Advertisement

ঝালকাঠির স্বাস্থ্য ও সড়ক বিভাগের অনিয়ম-দুর্নীতি রুখতে জেলা প্রশাসকের কাছে ঝালকাঠি সংবাদপত্র পরিষদের চিঠি

ঝালকাঠির স্বাস্থ্য ও সড়ক বিভাগের অনিয়ম-দুর্নীতি রুখতে জেলা প্রশাসকের কাছে ঝালকাঠি সংবাদপত্র পরিষদের চিঠি

স্টাফ রিপোর্টার ঃ
ঝালকাঠি স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন কাজে অনিয়ম দুর্নীতিতে নাভিশ্বাস উঠেছে সচেতন মহলে। দুর্নীতির খন্ডচিত্র গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে সর্বত্রই নিন্দার ঝড় ওঠে। ঝালকাঠি সংবাদপত্র পরিষদ নেতৃবৃন্দের কাছে বিভিন্ন সচেতন মহল থেকে অনুরোধ আসতে থাকে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের আলোকে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করার। ঝালকাঠিবাসীর একান্তই জনস্বার্থের কথা চিন্তা করে পদক্ষেপ নেয় ঝালকাঠি সংবাদপত্র পরিষদ। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সীমাহীন অনৈতিকতা রুখতে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে পরিষদ। ঝালকাঠি সংবাদপত্র পরিষদের আহবায়ক ও দৈনিক শতকণ্ঠ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন মন্জু, সদস্য ও ঝালকাঠি বার্তা’র সম্পাদক মাহবুবুল আলম, সদস্য ও দূরযাত্রা’র সম্পাদক সম্পাদক জিয়াউল হাসান পলাশ, সদস্য ও অজানা বার্তা’র সম্পাদক আব্দুর রহমান কাজল স্বাক্ষরিত চিঠি ২৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) পূর্বাহ্ণে জেলা প্রশাসকের কাছে পেশ করেন। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৬ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় প্রায় ৮ লক্ষ টাকা ব্যয় দেখিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২০১৯-২০ অর্থ বছরের মার্চ থেকে জুন এই ৪ মাসে করোনা খাতে সরকারি বরাদ্দ থেকে চিকিৎসায় এ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। বিষয়টিতে হাসপাতালের কর্তব্যরত সেবিকা, এ্যাম্বুলেন্স চালকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে এ টাকা ব্যয়ে অনিয়ম প্রমাণিত হয়। সংবাদটি গুরুত্বের সাথে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। ৬ জন রোগীর করোনা চিকিৎসায় ৮ লক্ষ টাকা ব্যয়, বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের প্রধান সহকারী আব্দুল মতিনের প্রস্তুত করা খরচের বিল ভাউচারে তৎকালীন সিভিল সার্জন ডাঃ শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদারের অনুমোদনে টাকা উত্তোলন করা হয়। চলতি অর্থ বছরে করোনা চিকিৎসার জন্য আরো ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ব্যয়ের মধ্যে উক্ত ৪ মাসে বরিশালে থাকা ঝালকাঠির কর্মরত ডাক্তারদের আনা নেওয়া পরিবহণ খরচ ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। অথচ হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. মহসিনের ভাষ্য অনুযায়ী ডাক্তারদের সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে আনা নেওয়া করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ডাক্তারদের খাওয়া, মাস্ক, জীবাণুনাশক ক্রয়সহ বিভিন্ন খাতে খরচের কথা উল্লেখ রয়েছে। মাত্র ৬ জন করোনা রোগীর চিকিৎসায় বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যয়! বিষয়টি সাধারণভাবে দেখছে না ঝালকাঠির মানুষ। তাঁরা ধারণা করছেন এখানে কোন অনিয়ম দুর্নীতি করা হয়েছে। সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থের তসরুপ করা হয়েছে। তাই বিষয়টির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া রোগীদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অভিযোগ প্রতিকারের জন্য জেলা প্রশাসককে অবগতি করা হয়েছে। তা হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান খারাপ, রোগীদের সাথে কতিপয় ডাক্তারদের অসম্মানজনক আচরণ, হতদরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় বৈষম্য, ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাম, এক্সরে মেশিনের ত্রæটি এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার কারণ দেখিয়ে বাইরে কমিশনে বাণিজ্য করা।
অপরদিকে ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা এবং দাপ্তরিক বিধি ভঙ্গ করে নিজস্ব একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তা প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঝালকাঠি সংবাদপত্র পরিষদ।
সংবাদপত্র পরিষদ লিখিত অভিযোগে জানিয়েছে, জরুরী রুটিন মেইনটেন্যান্স ব্যতীত ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোন বিটুমিনের কাজ না করানোর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্বাহী প্রকৌশলী বেগম শামিমা ইয়াসমিন ও ঠিকাদার মুহাম্মদ আমিনুল হক যোগসাজসে পিএমপি মাইনর খাতের দপদপিয়া-মোল্লারহাট-মহেশপুর রাস্তার ৯ম অংশ হতে ১০ম অংশ পর্যন্ত বেইস টাইপ-২ ও সিল কোটের কাজ নিয়ম বর্হিভূতভাবে মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে গিয়ে অর্থাৎ ১৫ জুনের পরে সম্পন্ন করেছেন।
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ২৫ জুন ২০২০ তারিখের ৬৩৫ নং স্মারকে নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেয়া পত্রে জানিয়েছেন, “বিধি বহির্ভূতভাবে ঠিকাদার কাজটি কার্যাদেশ ছাড়াই এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে না জানিয়ে করা হয়েছে। তাই এই কাজের বিল দাখিলের জন্য রেকর্ডে স্বাক্ষরসহ প্রস্তাব প্রেরণ করা সম্ভব নয়।” কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে বাইপাস করে ঠিকাদারের উক্ত কাজের ৪৫ লক্ষ টাকার বিল পরিশোধ করেছেন। এ সংক্রান্ত সংবাদ সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী বেগম শামিমা ইয়াসমিন নিজেই সরকারি নির্দেশনা অমান্য এবং দাপ্তরিক বিধি ভঙ্গ করে এ কাজে সম্পূর্ণ অনিয়ম করেছেন। অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীকে আড়াল করে এ কাজ করেছেন। গত অর্থ বছরের রাজাপুরে স্টক ইয়ার্ডে পি. জে ব্রিকস, স্টোন চিপস, সিলেট বালু, এবং লোকাল বালু সাপ্লাইর কাজের জন্য তিন দফায় টেন্ডার করে ঠিকাদার মো. এনায়েত হোসেনকে ৩০% লেস-এ ২০ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ব্যয়ে এ কাজ দেয়া হয়। যার স্মারক নং-৪৯৩/১(৫) তারিখঃ ১৬/৪/২০। অপর এক কার্যাদেশে (স্মারক নং ৫৭১/১(৮) তারিখঃ ১২/৫/২০) ঝালকাঠির স্টক ইয়ার্ডে একই ধরনের মালামাল ১ দফা টেন্ডার করে মাত্র ১% লেস-এ সম্পা কনস্ট্রাকশনকে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা ব্যয়ে কাজ দেয় হয়। একই মালামাল দুই স্থানে সাপ্লাইয়ে ৯ লক্ষ টাকার পার্থক্য রয়েছে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন, এখানেও কোন অসৎ উদ্দেশ্য কাজ করেছে নির্বাহী প্রকৌশলীর।
দুটি সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কাজে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা, দুর্নীতির কারণে সরকারি অর্থের লোপাট এবং জনগণের সেবা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই ঝালকাঠি সংবাদপত্র পরিষদ বিষয়গুলো জেলা প্রশাসককে দৃষ্টিতে নিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Comments are closed.

© All rights reserved © 2020 www.jhalakatibarta.com
Developed BY Website-open.com
error: Content is protected !!