সংবাদ শিরোনাম :

Advertisement

রাজাপুরের বিষখালীতে ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না ইলিশের, হতাশ জেলেরা

রাজাপুরের বিষখালীতে ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না ইলিশের, হতাশ জেলেরা

রাজাপুর প্রতিনিধি ঃ
রাজাপুর উপজেলা থেকে বয়ে যাওয়া বিষখালি নদীতে চলতি ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না ইলিশের। অন্যান্য বছর এই সময়ে এলাকার মাছের বাজার রূপালী ইলিশে ভরা থাকলেও এবার ঠিক উল্টো। মাছ শিকারের আশায় প্রতিদিন জেলেরা জাল, ট্রলার ও নৌকাসহ মাছ ধরার অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে নেমে পড়েন বিষখালি নদীতে, কিন্তু ইলিশ না পেয়ে হতাশ তারা। ইলিশের মৌসুমেও ইলিশ ধরতে না পারায় দুর্দিনে পড়েছেন জেলেরা। ইলিশ আহরণে খ্যাতি রয়েছে রাজাপুরের বিষখালি নদীর। এ নদীর জলসীমায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন শত শত জেলে। তবে, এ বছর ভরা ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও জালে মাছ ধরা পড়ছে না বললেই চলে। ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। মাঝে মাঝে দেখা মিললেও তাতে নৌকার খরচ উঠানোই সম্ভব হয় না। জেলেদের কাছে টাকা বিনিয়োগ করে বিপাকে আড়তদাররাও। এ পরিস্থিতিতে মহাজনের পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা। ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা বলছেন, করোনার কারণে প্রশাসনের সঠিক নজরদারির অভাবে নির্বিচারে জাটকা নিধনে কমেছে ইলিশের উৎপাদন। তবে খুব শিগগিরই নদীতে ইলিশ মিলবে বলে মনে করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। অল্প দিনের মধ্যে সাগর থেকে ইলিশ উজানের দিকে উঠা শুরু করবে, তখন নদীতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশের দেখা মিলবে।
বিষখালির বেশ কয়েকজন জেলে জানান, বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে নৌকা ও জাল কিনে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু সারাদিন জাল ফেলেও মাছ না পাওয়ায় তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। হতাশায় এখন অনেক জেলেই নদীতে যাচ্ছেন না, নদীর তীরে নৌকায় বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। বেশিরভাগ জেলে আবার ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তির ভয়ে বাড়িতে যাচ্ছেন না। দাদন নেয়া জেলেরা দাদন শোধ ও জীবন ধারণের চিন্তায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। বিষখালি নদীর সুস্বাদু ইলিশের খ্যাতি দেশজোড়া। প্রতিবছর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয় এখানকার ইলিশ। কিন্তু এবছর আর সেটি সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে। রাজাপুরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারগুলোতে তেমন ইলিশ মাছ নেই। এদিকে নদীতে যে যৎসামান্য ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে তার দাম সাধারণ ক্রেতাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ক্রেতারাও খুব একটা কিনছেন না ইলিশ মাছ। বাজারে ইলিশ কিনতে আসা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে অনেক আগেই। তবুও বাজারে খুব একটা ইলিশ মাছের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। চিন্তা করেছিলাম অনেক দিন পর ইলিশ মাছ কিনে নিয়ে যাবো, কিন্তু তা আর কেনা হল না।
মাছ বিক্রেতারা জানান, আগের মতো এখন আর ইলিশ মাছের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। বাজারে ইলিশ মাছ কম আসার কারণে আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেজন্য আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে রাজাপুরের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল বাসার বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন এর জন্য ইলিশের প্রজনন সময় পালটে গিয়েছে। অবশ্য এ বছরের প্রথম থেকে শুরু করে ভরা মৌসুমেও মাছের যে সংকট তা গত বছরে থাকলেও পরবর্তীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে জেলেদের জালে। তারপরও আশা করি সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে যে ইলিশ মাছ পাওয়া যাবে তা দিয়েই আমাদের চলতি অর্থবছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 www.jhalakatibarta.com
Developed BY Website-open.com
error: Content is protected !!