সংবাদ শিরোনাম :

Advertisement

উজিরপুর থানার ওসি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

উজিরপুর থানার ওসি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত

রাহাদ সুমন:
উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল আহসান একজন মানবদরদী পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সর্ব মহলে পরিচিতি অর্জণ ও সুনাম কুড়িয়েছেন।মানব ও দেশ প্রেম,পেশাদারিত্ব,দায়িত্ব বোধ.কর্তব্যনিষ্ঠা ও সর্বোপরি এলকার শান্তি,স্থিতি এবং আইন শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখায় বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জণ করা এ পুলিশ কর্মকর্তা দেশে প্রাণঘাতি কোভিড-১৯ নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ’র শুরু থেকে এর বিরুদ্ধে সন্মূখ সারির যোদ্ধা হিসেবে লড়াইয়ে অবর্তীণ হন। তিনি মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য মনে করে ও ভয়কে জয় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রোগীদের দাফন -কাফনের ব্যবস্থা করা,করোনা রোগীদের বাড়ি লকডাউন করা,কর্মহীন হত দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া ও সচেতন করাসহ নানা ভাবে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।মহা দূর্যোগ মুহুর্তে এলাকাবাসীর পাশে সার্বক্ষনিক থাকার মানসে তিনি থানায় ‘ঘরবসতি’ গড়ে তুলেছিলেন। উজিরপুরের জল্লা ইউনিয়নের পীরেরপাড় নামক স্থানে রাস্তার পাশে বৃষ্টির মধ্যে সারারাত ধরে পড়ে থাকা মধ্য বয়সী এক পাগলের লাশ করোনা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে দাফন করতে যখন কেউ এগিয়ে আসছিলেন না ঠিক সেই মুহুর্তে খবর পেয়ে তিনি এগিয়ে গিয়ে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। এছাড়া করোনার মধ্যে উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের সোনারবাংলা বাজার এলাকায় রাস্তার পাশে এক পাগলী সন্তান প্রসব করে। খবর পেয়ে সেখানে তিনি ছুটে গিয়ে ওই পাগলী মা ও তার নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।পরবর্তীতে ওই শিশুটিকে আগৈলঝাড়ায় বেবি হোমে রাখার ব্যবস্থা করে দেন তিনি।এমন মানবসেবার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে তার কর্ম জীবনে। ১৯ মার্চ লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি প্রিয়তমা স্ত্রী ও প্রিয় সন্তানদের ¯েœহ ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করে ও নিজে বঞ্চিত হয়ে তাদের ঢাকার বাসায় ফেলে রেখে উজিরপুরে সার্বক্ষণিক অবস্থান করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি শনিবার জ্বর ও মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হন। ওই দিন তার নমুনা সংগ্রহ করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের আরটি পিসিআর ল্যাবে পাঠানোর পরে রোববার রাতে তার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে। ‘মানবতার ফেরিওয়ালাখ্যাত’ এ চৌকষ পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে থানায় নিজ ব্যাচেলর কোয়ার্টারে আইসোলেশনে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। তার এ অসুস্থতার কথা শুনে উজিরপুর ছাড়াও তার পুরনো কর্মস্থল বানারীপাড়া,বাবুগঞ্জ ও মুলাদী থানার মানুষও সমব্যথি। তার আশু সুস্থতার জন্য এসব এলাকার মানুষও দোয়া করছেন।এ প্রসঙ্গে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল আহসান বলেন, দেশ ও মানুষের সেবা করার মহান ব্রতি নিয়ে পুলিশে চাকুরি নিয়েছি। করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি ‘মানুষ মানুষের জন্য’ মানবতার এ মহান ব্রতি নিয়ে। আমৃত্যু দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি তার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 www.jhalakatibarta.com
Developed BY Website-open.com
error: Content is protected !!