সংবাদ শিরোনাম :

Advertisement

রাজাপুরের বাসিন্দা ঢাবি শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগে ঝালকাঠিতে সংবাদ সম্মেলন

রাজাপুরের বাসিন্দা ঢাবি শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগে ঝালকাঠিতে সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার:
ঝালকাঠির রাজাপুরের বামুনখান গ্রামের বাসিন্দা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইসমাইল হোসাইন ও তার বাবা ফারুক হোসেনকে নানাভাবে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ অভিযোগ একই গ্রামের বাসিন্দা রাজাপুর উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৈনক সংগ্রাম পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি মো. সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ইসমাইল হোসাইন গত শনিবার রাজাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি এবং সোমবার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। রাজাপুর থানায় ৬ জুন দায়ের করা ২২৮ নং জিডি এবং সোমবার ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে ইসমাইল হোসাইনের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য থেকে জানা যায়, রাজাপুর উপজেলার বামুন খান গ্রামের মো. ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ইসমাইল হোসাইন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের চতুর্থ বর্ষে পড়াশোনা করে। করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সম্প্রতি সে বাড়িতে আসে। গত ২০ মে বাড়ির সামনে চায়ের দোকানে বসে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সাইদুল ইসলামের দুই মামাত ভাই ওয়াহিদুজ্জামান এবং কামরুজ্জামানের সাথে ইসমাইল হোসাইনের হাতাহাতি এবং তর্কাতর্কি হয়। এ ঘটনার জেরে গত ২৫ মে সাইদুল ইসলাম, তার দুই মামাত ভাই ওয়াহিদুজ্জামান ও কামরুজ্জামান মিলে ইসমাইলকে লাঠি দিয়ে ব্যপক মারধর করে। মারধরের ঘটনায় উভয় পক্ষ রাজাপুর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করলে থানার ওসি এসআই খোকনকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। এসআই খোকনের মধ্যস্ততায় উভয় পক্ষ তিনশত টাকার স্টাম্পে স্বাক্ষর করে দুইজন ইউপি সদস্যসহ পাঁচজন গন্যমান্য ব্যাক্তিকে সালিশ মনোনীত করেন সালিশদাররা । শুক্তাগড় ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য শাহজাহান খান এবং ২নং ওয়ার্ড সদস্য মনিরুজ্জামানসহ পাঁচজন সালিশদার তাদের রোয়েদাদে উল্লেখ করেন বারবার ইসমাইলের ওপর আক্রমন করা হয়েছে। তারপরও উভয় পক্ষ একই এলাকার আত্মীয় স্বজন হওয়ায় থানার দরখাস্ত উঠিয়ে আনবে এবং উভয় পক্ষ একে অপরের বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে মিলেমিশে বসবাস করবে। সালিশদারদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওয়াহিদুজ্জামান ও কামরজ্জামান পরিবার পরিজন নিয়ে ইসমাইলদের বাড়িতে ৩০ মে মধ্যহ্নভোজে অংশ নেয়। উভয় পক্ষ শন্তিপিূর্ন সহবস্থান মেনে নিলেও জামায়েতে ইসলামীর মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামের উপজেলা প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইসমাইল হোসাইনকে সন্ত্রাসী এবং শিবির ক্যাডার উল্লেখ করে ফেস বুকে আপত্তিকর পোস্ট দেয় এবং ১০ থেকে ১২ টি অনলাইন পোর্টালে মিথ্যা আজগুবি এবং মানহানীকর সংবাদ প্রকাশ করে। উক্ত সংবাদ দেখতে পেয়ে ইসমাইল ও তার বাবা ফারুক হোসেনকে সাইদুল ইসলামের কাছে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের কারণ জিজ্ঞেস করলে সাইদুল তাদেরকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে বলে, ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে আমি আমি ঠেকো, একাধিক মামলা মোকদ্দমা করে জীবন অন্ধকার বানিয়ে দেব, চাকরী করে খাওয়া লাগবে না। রাজাপুর থানার ওসি মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ইসমাইল হোসেন ডিজিটিাল নিরাপত্তা আইনে সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি দরখাস্ত এবং একটি সাধারণ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইসমাইল হোসেন বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্জেন্ট জহিরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য কোনকালে শিবিরের বা অন্য রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম না। অথচ আমার এলাকার বাসিন্দা রাজাপুর উপজেলা শিবিরের দুইবারের সাবেক সভাপতি, বর্তমানে সাইদুল আমাকে শিবির বানানোর ষড়যন্ত্র করছে। আমি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযোগ দিয়েছি। থানা মামলা না নিলে আদালত খুললে আমি সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করবো। অভিযোগের বিষয়ে সাইদুল ইসলাম বলেন, আমি ২০০৯ সাল পর্যন্ত শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। এখন আমি ছাত্রলীগ করি। আমি যেহেতু দৈনিক সংগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইনে সাংবাদিকতা করি তাই এলাকার এক বাড়িতে ইসমাইল হামলা করলে বাড়ির লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে আমি সংবাদ প্রকাশ করেছি। ইসমাইলের সাথে আমার ব্যাক্তিগত কোন দ্বন্দ নাই।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2020 www.jhalakatibarta.com
Developed BY Website-open.com
error: Content is protected !!